রমজান মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৩ – ইফতারের সময়সূচি ২০২৩

রমজান মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৩ – ইফতারের সময়সূচি ২০২৩

আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, আশা করি আপনারা সকলেই মহান রাব্বুল আলামিনের রহমতে সুস্থ আছেন। আপনাদের দোয়ায় এবং অন রাব্বুল আলামিনের রহমতে আমরা ভালো আছি। আগামীতে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে চলুন শুরু করা যাক আজকের এই পোস্টটি। আজকের এই পোস্টটিতে আমরা জানবো রোজা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য,

সেইসাথে আমরা আলো জানব 2022 সালের রোজা ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে। কিন্তু তার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশে রোজা কবে থেকে শুরু। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করব রোজা নিয়ে সমস্ত বিষয়াদি হাদিস সাপেক্ষে ব্যাখ্যা দিতে। আশা করি শেষ পর্যন্ত আপনারা পাশে থাকবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক আজকের বিষয়বস্তু নিয়ে।

বাংলাদেশে রোজা কবে থেকে শুরু ২০২৩

ইসলামী ফাউন্ডেশন মোতাবেক বাংলাদেশের প্রথম রোজা শুরু হবে তৃতীয় এপ্রিল হতে। অর্থাৎ মার্চ মাসেরছ ২২ তারিখে। যদি আমরা এটি বাংলা মাসের সাথে তুলনা করি তবে ১৪৪৪ হিজরীর মার্চ মাস।

রোজা নিয়ে মহান রাব্বুল আলামিন কি বলেছেন ?

রোজা নিয়ে মহান রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে যেমনিভাবে রোজা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর। ( সূরা বাকারা, আয়াত- ১৮৫ )

 

রমজানের ক্যালেন্ডার ২০২৩

আপনাদের সুবিধার মতে আমরা নিচে ছবির মাধ্যমে ২০২৩ সালের ইফতার ও সেহরীর জন্য একটি ক্যালেন্ডার তুলে ধরলাম।আমাদের দেওয়া ইফতার ও সেহরীর ক্যালেন্ডারটি ঢাকা জেলার জন্য প্রযোজ্য। অবশ্যই আপনারা ঢাকা জেলার ক্যালেন্ডার থেকে আপনাদের নির্দিষ্ট জেলার সময়সূচি গুলো কমবেশি অর্থাৎ যোগ বিয়োগ করে নেবেন। কারণ একাধিক স্থানের সময়সূচী ঢাকা থেকে কিছু কম অথবা বেশি হয়ে থাকে।

 

রোজার ফরজ কয়টি

রোজার ফরজ তিনটি। যথাঃ

১। রোজার নিয়ত করা।

২। নির্দিষ্ট সময় থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন প্রকার পানাহার থেকে বিরত থাকা।

৩। যৌনতা মূলক আচরণ থেকে বিরত থাকা।

যাদের উপর রোজা রাখা ফরজ

আমরা ইতিপূর্বে যাদের উপর রোজা রাখা ফরজ এই বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট তৈরী করে রেখেছি। যদি আপনাদের মাঝে উক্ত বিষয় নিয়ে জানার মতামত বা ইচ্ছা থেকে থাকে। তবে আপনি চাইলে আমাদের নিচে দেওয়া লিংকটিতে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

Link: যাদের উপর রোজা রাখা ফরজ

যাদের উপর রোজা রাখা ফরজ নয়

আপনাদের অনেকেরই মাঝে প্রশ্ন জেগে থাকে রোজা রাখা কাদের জন্য ফরজ নয়। তাই আমরা আপনাদের জন্য পূর্বেই আমরা এই বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট তৈরী করে রেখেছি। যদি আপনাদের উত্তর বিষয়ে জানার আগ্রহ থেকে থাকে, তবে অবশ্যই নিচে দেওয়া লিংকটিতে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন।

Link: যাদের উপর রোজা রাখা ফরজ নয় 

রোজা ভঙ্গের কারণ । রোজা ভঙ্গের কারণ কয়টি ও কি কি

অনেকেই আছেন যারা রোজা ভঙ্গের কারণ সম্পর্কে এখনো অজানার মাঝে আছেন। মূলত তাদের উদ্দেশ্যেই এই পোস্টটিতে রোজা ভঙ্গের কারণ উল্লেখ করা হলো। রোজা ভঙ্গের কারণ ৭টি। যথাঃ

১।পানাহার করা। রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়। তবে ভুলবশত কোন কিছু খেলে সে ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হয় না।

২।স্ত্রী সহবাস করা। যদি কোন ব্যক্তি দিনের বেলায় অর্থাৎ রোজা রেখে স্ত্রী সহবাস করে তবে সে ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়। এতে সেখানে বীর্যপাত হোক বা না হোক। তবে সেদিনের রোজা অবশ্যই রেখে পরবর্তীতে তার কাফফারা আদায় করে নিতে হবে।

৩। মৈথুন বা হস্তমৈথুন করা। যেখানে রোজা হচ্ছে সমস্ত পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা। এখানে অবশ্যই পাপ কাজের মাধ্যমে রোজার কাজ সম্পন্ন হয়না। ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কোন ব্যক্তি রোজা রেখে বীর্য ত্যাগ করে তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি এমনটি হয়ে যায় তবে তওবা করতে হবে এবং বাকি রোযা সম্পন্ন করে তার কাফফারা পরবর্তীতে আদায় করে নিতে হবে।

৪।ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে ভমি করা। রোজা থাকা অবস্থায় যে ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি চলে আসে বা বমি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করে ফেললে তবে রোযা কাযা হয় না। অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত বমি করলে সমস্যা নেই।

৫।মহিলাদের হায়েজ ও নিফাজের সময় রক্ত নির্গমন হওয়া। উক্ত কাজটি যদি রোজা থাকা অবস্থায় থাকে তবে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। আর এমনটি হয়ে থাকলে পরবর্তীতে সেই রোজা কাজা করে নিতে হবে।

৬। শিঙ্গা লাগানো। যে শিঙ্গা লাগায় বা যার উপর শিঙ্গা লাগানো হয় উভয়ের মধ্যকার সিয়াম বা রোজা নষ্ট হয়ে যায়।

৭। পানাহারের বিকল্প বিষয় নিয়ে। পানাহারের বিকল্প হিসাবে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমতঃ রোজাদার ব্যক্তির শরীরে কোন প্রাসঙ্গিক কারণে রক্ত প্রবেশ করালে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়। কারণ পানাহারের মাধ্যমে শরীরে রক্ত উৎপাদন হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়তঃ মনে করেন কিছু অসুস্থ ব্যক্তি যিনি রোজা রেখেছেন কিন্তু অসুস্থতার কারণে তাকে স্যালাইন বা ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। যদি সেলাইন বা ইনজেকশন খাবারের বিকল্প হিসাবে থেকে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হবে। আর যদি এটি খাবারের বিকল্প হিসেবে না হয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই।

রোজা রাখলে শরীরে যেসব উপকার হয়

আমরা ইতিপূর্বে এই বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট তৈরী করেছি। যদি আপনাদের মত রোজা রাখলে শরীরে কি কি উপকার হয় এ বিষয়ে জানার আগ্রহ থেকে থাকে তবে চাইলে আমাদের দেওয়া লিংকটি ক্লিক করে দেখে আসতে পারেন।

Link: রোজা রাখলে শরীরে যেসব উপকার হয়

সর্বশেষ কথাঃ অবশ্যই ভুল মানুষের মধ্যে হয়ে থাকে। তাই আমাদের কোনো মতামতের ভুল হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। সেইসাথে কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিবেন। আর ভবিষ্যতে এরকম পোস্ট পেতে চাইলে অবশ্যই আমাদেরকে ফোন করবেন। ধন্যবাদ সবাইকে আজকের মত এ পর্যন্তই। 

Maimuna Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *