কোরবানি সম্পর্কে হাদিস

কোরবানি সম্পর্কে হাদিস

প্রিয় ভাই ও বোনেরা প্রথমে সকলকে জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার অগ্রিম শুভেচ্ছা। আর কিছুদিন পরে আমাদের ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ হতে চলেছে। মুসলমানদের বছরে দুটি উৎসবের দিন রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল ঈদুল ফিতর আরেকটি ঈদুল আযহা। দুধের মধ্যে ঈদুল আযহার তাৎপর্য একটু অন্যধরনের।

ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদের পিছনে রয়েছে অনেক ইতিহাস বা হাদিস। আজকে আমরা সকল হাদিস সম্পর্কে আপনাদেরকে জানাবো। কুরবানীর হাদিস সম্পর্কে বর্ণনা করতে গেলে তা বলে শেষ করা সম্ভব হবে না।তবে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব মূল কথার মাধ্যমে আপনাকে কুরবানীর ইতিহাস বা হাদিস সম্পর্কে জানানোর।

কোরবানি ঈদ

কোরবানির ঈদ কথাটা শুনলেই যেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মনে এক অন্যরকম আনন্দের সৃষ্টি হয়। কারণ তাদের বছরের দুইটি উৎসবের মধ্যে কোরবানির ঈদ অন্যতম। এই ঈদে তাদের জন্য যেমন উৎসবের দিন ঠিক তেমনি একটি বড় ইবাদতের দিন।

কোরবানির ঈদে যার উপর কুরবানী ফরজ তাকে কোরবানি করতে হয়। এবং সে কোরবানির গোশত ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী মিলাতে হয়। এর ফলে সকল ধনী-দরিদ্র সবাই এই ঈদে আনন্দে কাটাতে পারেন। এই দিক থেকেও এই কুরবানীর ঈদের তাৎপর্য অনেক।

তবে কোরবানির ঈদ আমাদের পর্যন্ত আসার প্রধান কারণ হলো হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার ছেলে হযরত ইসমাইল(আ.) এর এক বড় ত্যাগের নিদর্শন। তারা ইসলামের পথে যে বড় আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল সেই আত্মত্যাগের ই ইতিহাস আমাদেরকে জানানোর জন্যই কুরবানীর গুরুত্ব অনেক(আ.)।

হযরত ইব্রাহিম(আ.) আল্লাহ তাআলার নির্দেশে নিজের সন্তান হযরত ইসমাইল(আ.) কে কুরবানী করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই জায়গায় হযরত ইসমাইল(আ.) পরিবর্তে আল্লাহ তাআলা একটি দুম্বা কুরবানী করে দেন।তারপর থেকে কুরবানী করা ইসলামী শরীয়তে যুক্ত হয়ে যায় সম্পূর্ণভাবে। এইভাবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদে একটি উৎসবের দিন ঘোষিত হয়।

কোরবানি সম্পর্কে হাদিস

হাদীসে বর্ণিত রয়েছে, আমাদের প্রিয় নবী(স.) সাদা ও কালো রঙের বড় শিং বিশিষ্ট দুইটি দুম্বা কোরবানি করতেন।তিনি নিজে দুম্বা কুরবানী করার জন্য দোয়া করতেন আর তিনি উট নহর করতেন।

আর কুরবানীর নিয়ম হচ্ছে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা জবাই করা এবং উট নহর করা। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ(স.) এমনটাই করতেন। নহর করা হচ্ছে জবাই না করা কিন্তু জবায়ের মত একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে কুরবানী করা হয়।

হাদীসে বর্ণিত, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা সকল কিছুর প্রতি অনুগ্রহ করতে বলেছেন। কোরবানির পশু জবাই করার জন্য উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করতে বলা হয়েছে। পশু জবাই করার ছুরিতে ভালো করে শান দিতে বলা হয়েছে যাতে পশু কোরবানির সময় প্রচুর কষ্ট বেশি না হয়।

কোরবানি করার সময়

কোরবানি করার সময় সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, জিলহজ্ব মাসের 10 তারিখে ঈদুল আযহার দিন ঈদুল আযহার নামাজ শেষ করে তারপর কুরবানী করতে হবে। কখনোই নামাজের পূর্বে কোরবানি করা যাবে না। তাহলে সে কুরবানী কুরবানী হবে না বরং বাড়িতে খাওয়ার জন্য সাধারণ গোশত হবে।

তাই ঈদুল আযহার নামায শেষ করার পর কুরবানীর পশু জবাই করতে হবে। কোরবানির বা ঈদুল আযহার প্রধান দিন জিলহজ্ব মাসের 10 তারিখ। সেইদিন কুরবানী করা হচ্ছে উত্তম। কিন্তু কোন কারণে জিলহজ মাসের 10, 11 ও 12 তারিখ কোরবানি করা যায়।

কোরবানির পশুর বয়স

হাদীসে রয়েছে, 6 টি পশু কোরবানি করা যায়। তারমধ্যে উট এর বয়স হতে হবে পাঁচ বছর। গরু এবং মহিষের হতে হবে দুই বছর। এছাড়াও ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স হতে হবে এক বছর।

তবে বিশেষ কারণে ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স 6 মাস হলেও চলবে কিন্তু তা দেখতে এক বছর বয়সি ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার মতো হতে হবে।

কোরবানির গোশত খাওয়া ও সংরক্ষণ

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে, নবী করিম (সা.) তিনরাত পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর (অবকাশ দিয়ে) বলেন, ‘খাও, পাথেয় হিসাবে সঙ্গে নাও এবং সংরক্ষণ করে রাখ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২/১৫৮)

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর এক বর্ণনায় আছে যে, ‘খাও, সংরক্ষণ কর এবং সদকা করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২/১৫৮)

এই হাদীস থেকে বোঝা যায় কুরবানীর গোশত সংরক্ষণ করে রাখা যায় এবং খাওয়া যায়।

কোরবানি কার উপর ফরজ

সাধারণত স্বাভাবিক জ্ঞান বুদ্ধি সম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলমান যদি” নিসাব” পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। নিসাব হল” সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ” বা “সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা” বায়ের সমপরিমাণ টাকার মালিক হওয়ার।

অর্থাৎ কারো কাছে যদি 60000 বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ টাকা থাকে তবে তার ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব।

কোরবানি করা ফরজ নয় কিন্তু তাহলে ওয়াজিব। ওয়াজিব কাজ ফরজ না হলেও তার তাৎপর্য ফরজের থেকে কোথাও কম নয়। ওয়াজিব কাজ না করলে তার জন্য শাস্তি রয়েছে।

আরো পড়ুন-ঈদ মোবারক স্ট্যাটাস

Maimuna Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *