স্বাধীনতা দিবসের কবিতা – ২৬ শে মার্চের সেরা বিখ্যাত কিছু কবিতা

স্বাধীনতা দিবসের কবিতা – ২৬ শে মার্চের সেরা বিখ্যাত কিছু কবিতা

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনারা সকলেই অনেক অনেক ভাল আছেন। আজকে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চলেছি বিভিন্ন রকমের স্বাধীনতা বিষয়ক কবিতা। আপনারা সকলে হয়তোবা এ বিষয়ে অবগত যে আগামী 26 শে মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। সেদিন থেকেই বাংলার মানুষেরা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সংগ্রাম শুরু করে। অর্থাৎ এই দিন থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল যাত্রা শুরু হয়। তাই এ দিনটি আমাদের কাছে খুব স্মরণীয়।

প্রত্যেকটি বাংলাদেশের কাছেই এই দিনটি খুবই মূল্যবান একটি দিন। কেননা এ দিন থেকে সংগ্রাম শুরুর মাধ্যমেই হাজার 1971 সালের 16 ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। তাই এ দিনটিকে আমরা কখনোই ভুলতে পারবো না। আর এই স্মরণীয় দিন টিকে আরও স্মরণীয় করার জন্য বিভিন্ন রকমের কবিতা রয়েছে। যা আমরা অন্যের কাছে শেয়ার করার মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের স্মৃতিকে মানুষের মনে জাগে তুলতে পারি। তাই এ সকল কবিতাগুলো অনেকে খুঁজে থাকেন। সেগুলো এবার আপনাকে আমরা দেখাবো।

স্বাধীনতা দিবসের কবিতা

স্বাধীনতা দিবস কারো একার নয়। এটি কোটি কোটি বাংলাদেশীর একটি বৃহৎ উৎসবমুখর দিন। কারণ আমরা আমাদের মূল স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম শুরু করেছিলাম। যদিও স্বাধীনতার সংগ্রাম অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটিতেই শুরু হয়।

এই সকল কার্যকলাপ এর মধ্য দিয়ে এই স্মরণে দিনটিকে নিয়ে অনেকে অনেক কবিতা রচনা করেছে। যা মানুষের মনে আজও অনেক স্মৃতি রেখে গেছে। শেষ স্মৃতি গুলোকে বিভিন্ন ধরনের কবিতা গুলো মনে করিয়ে দেয়মনে করিয়ে দেয়। চলুন সেই সকল কবিতাগুলো একবার দেখে নেয়া যাক।

স্বাধীনতা দিবস নিয়ে বিখ্যাত কবিতা

এবার আপনাদের সামনে যে কবিতাটি লিখেছেন আমাদের বাংলার সেরা সাহিত্যিক ও কবি শামসুর রহমান। তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও অনেক সুন্দর লেখক কবি ছিলেন। তার কবিতাগুলো বাঙালি সারা জীবন মনে রাখবে। চলুন তার স্বাধীনতা বিষয়ক একটি কবিতা জেনে নেয়া যাক।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা

– শামসুর রাহমান

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ? আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা, সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল, সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর। তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা, শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো দানবের মত চিৎকার করতে করতে তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা, ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড হলো। রিকয়েললেস রাইফেল আর মেশিনগান খই ফোটাল যত্রতত্র। তুমি আসবে বলে ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম। তুমি আসবে বলে বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভুর বাস্তুভিটার ভগ্নস্তূপে দাঁডিয়ে একটানা আর্তনাদ করল একটা কুকুর। তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা, অবুঝ শিশু হামাগুডি দিলো পিতা-মাতার লাশের উপর।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ? আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ? স্বাধীনতা, তোমার জন্যে এক থুত্থুরে বুড়ো উদাস দাওয়ায় বসে আছেন – তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল।

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে মোল্লাবাডির এক বিধবা দাঁডিয়ে আছে নড়বড়ে খুঁটি ধরে দগ্ধ ঘরের।

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে বসে আছে পথের ধারে। তোমার জন্যে, সগীর আলী, শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক, কেষ্ট দাস, জেলেপাডার সবচেয়ে সাহসী লোকটা, মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি, গাজী গাজী বলে যে নৌকা চালায় উদ্দাম ঝড়ে, রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস এখন পোকার দখলে আর রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুরে-বেড়ানো সেই তেজি তরুণ যার পদভারে একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে– সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে, নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।

বিখ্যাত কবিদের স্বাধীনতা দিবস নিয়ে কবিতা

এবার আমরা যে কবিতাটি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো সে কবিতাটির নাম হচ্ছে স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো। যে কবিতাটি লিখেছেন, নির্মলেন্দু গুণ।

স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো

– নির্মলেন্দু গুণ

একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’ এই শিশুপার্ক সেদিন ছিল না, এই বৃক্ষে ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না, এই তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না। তা হলে কেমন ছিল সেদিনের বেলাটি? তা হলে কেমন ছিল শিশুপার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে, ফুলের বাগানে ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হৃদয় মাঠখানি?

জানি, সেদিনের সব স্মৃতি মুছে দিতে হয়েছে উদ্যত কালো হাত। তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ কবির বিরুদ্ধে কবি, মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ, বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল, উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান, মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ…। হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি, শিশুপার্কের রঙ্গিন দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি একদিন সব জানতে পারবে; আমি তোমাদের কথা ভেবে লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প। সেদিনের এই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর।

না পার্ক না ফুলের বাগান, -এইসবের কিছুই ছিল না, শুধু একখন্ড অখন্ড আকাশ যেরকম, সেরকম দিগন্ত প্লাবিত ধু ধু মাঠ ছিল দুর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়। আমাদের স্বাধীনতাপ্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশেছিল এই ধু ধু মাঠের সবুজে। কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক, লাঙ্গল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক। হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, করুন কেরানী, নারী, বৃদ্ধ, বেশ্যা, ভবঘুরে আর তোমাদের মতো শিশু পাতা-কুড়ানীরা দল বেঁধে।

একটি কবিতা পড়া হবে,তার জন্য কী ব্যাকুল প্রতীক্ষা মানুষের: ‘কখন আসবে কবি?’ ‘কখন আসবে কবি?’ শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে, রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন। তখন পলকে দারুন ঝলকে তরীতে উঠিল জল, হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা। কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী? গণসুর্য্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই থেকে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি আমাদের।

প্রতিবাদী নারী কবিতা ও উক্তি

 

সর্বশেষ কথা

আশা করি আপনারা সবাই স্বাধীনতা বিষয়ক কবিতা গুলো ভালভাবে উপভোগ করেছেন। এ ধরনের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পর্কে জানতে হলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। কেননা আমরা এধরণের বিভিন্ন ধরনের লেখা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করে থাকি। তাই অবশ্যই এই লেখাটি আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দেবেন। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Maimuna Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *