ব্যবসা লোন বাংলাদেশ – বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ব্যবসা লোন

ব্যবসা লোন বাংলাদেশ – বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ব্যবসা লোন

বর্তমানে ব্যবসা ছাড়া ধনী হওয়া সম্ভব না। তাছাড়া জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলেন পৃথিবীতে যত টাকা রয়েছে তার চারভাগের তিনভাগ ব্যবসার মধ্যে। আর বাংলাদেশের পেক্ষাপটে চাকরি পাওয়া খুবই কঠিন। আপনার যদি মামা-খালু না থাকে, যদি আপনার টাকা না থাকে তাহলে আপনি কোনোভাবেই চাকরি পাবেননা। কেননা বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজরা বসে আছে। এই সকল দুর্নীতিবাজদের কারণে যোগ্য লোকেরা কখনো চাকরি পায় না। যোগ্য লোকেরা চাকরি না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে।

তাছাড়া সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যত খালি সিট রয়েছে সব বাংলাদেশের রাঘববোয়ালদের দখলে। যার কারণে মিডলক্লাস ও লো ক্লাস মানুষদের জন্য চাকরি সোনার হরিণের মতো। যা কোন ভাবেই পাওয়া সম্ভব না। তাই বাংলাদেশের বেশিরভাগ তরুণ সমাজ ব্যবস্থার প্রতি ঝুকে যাচ্ছে। আবার অনেকেই আছে যারা পুঁজির অভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না। যার কারণে তাদের বেকার বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। এর জন্য বিভিন্ন ব্যাংক বর্তমানে ব্যবসা লোন পদ্ধতি চালু করেছে। আপনি যদি নতুন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন তাহলে ব্যবসা লোন নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

ব্যবসা লোন বাংলাদেশ

ব্যবসা করার জন্য ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা করা হয় তাকে ব্যবসা লোন বলে। পূর্বে গ্রামীণ ব্যাংক কৃষকদের ও ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের ব্যবসা লোন দিত। পরে কৃষকরা ও ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা আস্তে আস্তে সেই ঋণ কিছুটা লাভের বিনিময় শোধ করে দিত। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব ব্যাংক ব্যবসা লোন দিয়ে থাকেন। তাই আপনি যদি নতুন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আপনি ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

তবে ব্যবসা লোন নেওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। আপনি যখন ব্যবসা লোন নেওয়ার জন্য ব্যাংকে যাবেন তখন তারা আপনার কাছে  কিছু তথ্য যাবে। এসকল তথ্য যদি আপনি দিতে পারেন তাহলে তারা আপনাকে ব্যবসা লোন দিবে। তবে ব্যবসা লোন এর নিয়ম রয়েছে প্রতিমাসে আপনাকে কিছু কিছু টাকা দিয়ে তা শোধ করে দিতে হবে। তাই যারা পুঁজির অভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না তারা ব্যবসা লোন নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

সোনালী ব্যাংক ব্যবসা লোন

সোনালী ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার পদ্ধতি দুটি। একটি হল পার্সোনাল লোন আর অন্যটি চাকরিজীবীদের লোন। আপনি যদি পার্সোনাল লোন নিতে চান সেক্ষেত্রে আপনি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। পার্সোনাল লোন ২০ হাজার থেকে ৫ কোটি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর চাকরিজীবীদের লোন ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা হয়। পার্সোনাল লোন বলতে এখানে ব্যবসায়ীদের লোন বোঝানো হয়েছে। যারা ব্যবসা করে তাদের বেশি টাকা দরকার যার কারণে তারা পার্সোনাল লোন নিয়ে থাকে।

আর পার্সোনাল লোন এর পরিষদের সময় ৫ বছর হয়। এখানে আপনাকে প্রতিমাসে কিস্তি দিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ৮% হারে সুদ দিয়ে তা পরিশোধ করতে হবে। আর যারা চাকরিজীবী লোন নিয়ে থাকে তাঁদেরকেও ১২% পার্সেন্ট হারে সুদ দিয়ে ১ বছর থেকে ৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তবে অযোগ্য ও মানসিক বাতিকগ্রস্ত লোকদের লোন দেয়া হয় না।

জনতা ব্যাংক ব্যবসা লোন

জনতা ব্যাংক ব্যবসা লোন নির্ভর করে আপনি কিসের জন্য লোন নিবেন তার ওপর। তাছাড়া আপনি যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে আপনি একরকম লোন নিতে পারবেন।  আর যদি আপনি ব্যবসা করার জন্য নেন সে ক্ষেত্রে লোন অন্যরকম। আপনি যদি বাড়ি করার জন্য লোন নিতে চান সেক্ষেত্রে আপনার সুদের হার হবে ৯% । পাঁচ বছরের মধ্যে আপনার তা পরিষদ করতে হবে। আর আপনি সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন।

যদি আপনি ব্যবসা করার জন্য লোন নিতে চান সেক্ষেত্রে আপনি সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন। আর তখন আপনার সুদের হার হবে ১১%। আর পাঁচ বছরের মধ্যে আপনার এই লোন পরিশোধ করতে হবে। আর যদি আপনার ব্যবসা আরো বড় হয় এবং আপনার ক্ষমতা ভালো থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ৫০ হাজারের নিচে কোন লোন নেয়া যায়না।

গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবসা লোন

একমাত্র গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আপনি সব ধরনের লোন নিতে পারবেন। এখান থেকে আপনি শিক্ষা লোন, কৃষি লোন, গরু ক্রয় করার লোন, ক্ষুদ্রঋণ, ছোটখাটো ব্যবসা ঋণ, সকল প্রকার ঋণ গ্রামীণ ব্যাংক দিয়ে থাকে। তবে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার থেকে আপনি সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। আর গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার খুবই কম। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিলে আপনার সুদের হার হবে ১০%।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন ছোটখাটো লোন এর ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া ভালো। তাই আপনি যদি ছোটখাটো ব্যবসা করতে চান বা বাড়িঘর, কৃষি, কোন খামার করা সকল ঋণের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে নেয়া সবচেয়ে ভালো।

ইসলামী ব্যাংক ব্যবসা লোন

ইসলামী ব্যাংক থেকে ব্যবসা লোন নিতে চাইলে আপনাকে আপনার জমিজমার কাগজ পত্র প্রদান করতে হবে। সবকিছু দেয়ার পর তারা আপনাকে লোন দিবে। এক্ষেত্রে আপনি সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা লোন উঠাতে পারবেন। তবে আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের উর্ধ্বে হতে হবে। আর ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নিলে আপনাকে তা ৫ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে। আর এখানে আপনার সুদের হার হবে ৮%। এর জন্য আপনাকে প্রতিমাসে কিছু প্রদান করতে হবে আপনার টাকার উপর ভিত্তি করে।

ব্যবসা করার জন্য লোন

বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ব্যবসা করার জন্য লোন দিয়ে থাকে। যদি আপনার ছোটখাটো ব্যবসা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন। আর গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া আপনার জন্য ভালো হবে। যদি আপনি বড় আকারের কোন লোন নিতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক অথবা ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নিতে হবে। এ সকল ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য যে নিয়ম কানুন রয়েছে তা আমি উপরে তুলে ধরেছি। তাই আপনি যদি লোন নিতে চান উপরের অংশ দেখে নিন।

Read More

১০ + ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া

ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসা

স্টুডেন্টদের জন্য পার্ট টাইম জব

রোমানিয়া স্টুডেন্ট ভিসা ও ভিজিট ভিসা

Maimuna Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *