১০ + ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া

১০ + ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া

ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া বলা হয়ে থাকে, ছাত্র জীবন মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুখের জীবন। কিন্তু সকল ছাত্রের জন্য ছাত্র জীবন সুখের হয়ে থাকে না। অনেক ছাত্রকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হয়। এর জন্য তাকে লেখাপড়ার পাশাপাশি কিছু না কিছু করতে হয়।

বর্তমানে অধিকাংশ ছাত্ররা, লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করে থাকে। এভাবে কাজ করে তারা তাদের পড়াশোনা চালায়। বর্তমানে বেশিরভাগ ছাত্ররা ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে। কেননা ব্যবসা হচ্ছে সবচেয়ে হালাল পন্থা। এটা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা।

বিখ্যাত মানুষেরা বলেন, পৃথিবীর চার ভাগের টাকার মধ্যে তিন ভাগ টাকা ব্যবসায় লুকিয়ে আছে। তাই আপনি যদি বিলাস বহুল জীবনযাপন করতে চান, তাহলে আপনাকে ব্যবসা বেছে নিতে হবে। কেননা ব্যবসার মাধ্যমে দ্রুত সফলতা অর্জন করা যায়।

ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া

একটি দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, ছাত্ররা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা বাহ্যিক পরিবেশ সম্পর্কে তারা সবচেয়ে বেশি অবগত। আজকে আমি ছাত্রদের জন্য কিছু ব্যবসা আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করব। এগুলো করে ছাত্ররা খুব দ্রুত সফলতা অর্জন করতে পারবে। চলুন জেনে নেয়া যাক সেই ব্যাবসা আইডিয়া গুলো।

বই বিক্রি করার ব্যবসা

অনেক মানুষ আছে যারা বই পড়তে পছন্দ করেন। বর্তমানে বই বিক্রি করা হচ্ছে অন্যতম লাভজনক ব্যবসা। এমনকি এই ব্যবসায় একটি সম্মানজনক ব্যবসা। তাই আপনি যদি চান তাহলে বই বিক্রি করতে পারেন। কেন না আপনি যেকোনো জায়গায় বিক্রি করতে পারবেন।

খাবারের দোকান ব্যবসা

বর্তমানে খাবার ব্যবসা হচ্ছে অন্যতম লাভজনক ব্যবসা। বর্তমানে শতকরা 80 ভাগ মানুষ রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাওয়া পছন্দ করে। আর স্কুল ছাত্রছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি রাস্তার খাবার খেয়ে থাকে।

তাই আপনি চাইলে অল্প পরিসরে ছোট্ট একটি দোকান নিয়ে খাবারের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এতে আপনার পড়াশোনার তেমন ক্ষতি হবে না। এমনকি আপনি খুব দ্রুত আপনার ব্যবসা বাড়াতে পারবেন। এমনকি অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

ক্রাফটিং ব্যবসা

বর্তমানে কাগজ কেটে বিভিন্ন জিনিস বানানো মানুষের শখে পরিণত হয়েছে। আর কাগজ কেটে ফুল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিস বানানো যায়। বর্তমানে প্রতিটি স্কুলে ক্রাফটিং শেখানো হয়ে থাকে। আমার পরিচিত একজন ক্রাফটিং করে ভালো টাকা উপার্জন করছে।

কাপটেন করে বানানো জিনিস সাধারণত জন্মদিন ও বিয়ের অনুষ্ঠানে ভালো চাহিদা থাকে। আমি আমার অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে এই ইউনিক গুণটি দেখেছি। তাই আপনি চাইলে মার্কেটপ্লেসে এই ব্যবসাটি করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বর্তমানে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেকে মাসে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করেছে। আমার এক বন্ধু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে 80 হাজার টাকা করে উপার্জন করে। অনেকের মাঝে প্রশ্ন জাগতে পারে এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে দেওয়া। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য শুধুমাত্র একটি ফোন হলেই যথেষ্ট। ফোনের মাধ্যমে সোশ্যাল শেয়ার করে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করি আপনি খুব দ্রুত সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

ব্লগিং

বর্তমানে অনেক মানুষ ব্লগিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ব্লগিং করে অনেক মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছে। আমার বন্ধু ইমরান ব্লগিং করে প্রতিমাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা উপার্জন করছে। বর্তমানে সে একজন সফল উদ্যোক্তা।

ব্লগিং হচ্ছে কোন একটি বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লেখা। এটা হচ্ছে গুগল ব্লগিং। অনেকে আবার ইউটিউব লগইন করে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করেছে। গুগোল ব্লগিং এর পাশাপাশি ইউটিউব ব্লগিং অনেক জনপ্রিয়। আপনি চাইলে যেকোনো একটি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।

ভিডিও এডিটিং

বর্তমানে অনেক ছেলেমেয়ে ভিডিও করে অনেক টাকা উপার্জন করছে। তবে ভিডিও এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হচ্ছে এডিটিং। যে ভিডিও এডিটিং ভালো হয়, সেই ভিডিও দেখতে অনেক ভালো লাগে। বর্তমানে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর কাজ ভিডিও এডিটিং প্রয়োজন হয়।

তাছাড়া অনেকে ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও এডিটিং করে থাকে। আরে সকাল ভিডিও হাজার হাজার মানুষ দেখে থাকে। আর আপনি যদি এডসেন্স পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

কনটেন্ট রাইটিং

বর্তমানে অনেকেই ব্লগিং করে থাকে। অনেক ব্লগার এর অনেকগুলো করে সাইট থাকে। যার ফলে তার একা প্রতিটি সাইটের কনটেন্ট রাইটিং করা সম্ভব হয়না। এর জন্য তারা কনটেন্ট রাইটার ভাড়া করে থাকে। এমনকি প্রতিটি কনটেন্টের বিনিময় তাদের টাকা দিয়ে থাকে।

একটি কমেন্টের জন্য অনেক সময় 300 থেকে 400 টাকা উপার্জন করা যায়। একটি কনটেন্ট লেখতে এক ঘণ্টা সময় লাগে। তাই আপনি চাইলে কনটেন্ট রাইটিং করে মাসে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এটি ঘরে বসেই করা যায়।

লোগো ডিজাইন

বর্তমানে অনেক কোম্পানি তাদের কোম্পানির জন্য লোগো ডিজাইন করে থাকে। এর জন্য তারা লোগো ডিজাইনার খোঁজে। অনেক সময় একটি লোগো ডিজাইনের জন্য তারা 200 থেকে 300 ডলার দিয়ে থাকে। আর আমরা জানি যে 1 ডলার সমান 85 টাকা।

আর আপনার যদি ফাইবার একাউন্ট থাকে , তাহলে আপনি লোগো ডিজাইন করে,  প্রতিদিন হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। তাই আপনি লোগো ডিজাইন কে আপনার ব্যবসা হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

অনলাইন টিউশন

বর্তমানে অনলাইন টিউশন দিয়ে থাকে। বর্তমানে একটি অন্যতম সম্মানজনক পেশা। আপনি হাজার হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। বর্তমানে বেশিরভাগ ছাত্ররা তাদের প্রথম পেশা হিসেবে বেছে নেয়।

আর শহরে একটি টিউশন এর জন্য প্রায় 7 থেকে 10 হাজার টাকা দিয়ে থাকে। যদি আপনি ভাল কোন ভার্সিটিতে পড়াশোনা করে থাকেন, তাহলে 15 থেকে 20 হাজার টাকা পাবেন। এভাবে আপনি যদি 3 থেকে 4 টা টিউশন করেন, তাহলে আপনি অনেক টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং

আপনার যদি অনলাইন সম্পর্কে ধারনা থাকে, তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। কেননা এর মাধ্যমে ঘরে বসে অনেক অর্থ উপার্জন করা যায়। আর বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। আর অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছে।

এর মাধ্যমে আপনি দেশের ভেতরে নয় , দেশের বাইরে কাজের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে আমাদের দেশের অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাই আপনি চাইলে আপনিও ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।

শেষ কথা

উপরোক্ত সবগুলো হল ছাত্রদের জন্য ব্যবসা আইডিয়া।  তবে আপনি যদি আমার মতামত নিতে চান , তাহলে আমি আপনাকে টিউশন ও ফ্রিল্যান্সিং করার আইডিয়া দিব। কেননা এই দুটি হচ্ছে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা।

বাকিটা আপনার ইচ্ছা। আপনার যদি এই পোষ্টটি ভাল লেগে থাকে, এমনকি এই পোষ্টের মাধ্যমে যদি আপনি উপকৃত হন। তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। এই পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Maimuna Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *