শবে বরাত নামাজ

শবে বরাত নামাজ

শবে বরাত :-শবে বরাত নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই অনেক প্রশ্ন আছে। আজ আমি আপনাদেরকে শবে বরাত নিয়ে সহিহ হাদিস থেকে কিছু তথ্য জানাবো। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি আপনার সকল ভুল ধারণা শেষ করতে পারবে। আজকে আমি জানাবো মূলত শবে বরাত পালন করা যাবে কি যাবে না এবং কিভাবে পালন করা যায়। এ সম্পর্কে সকল তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরব।

আপনি যদি শবে বরাত সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে চান। তাহলে আমারতো পুষ্টি ভালভাবে পড়ুন। কারণ আজকের এই পোস্টের আমি সবেবরাত সম্পর্কিত সকল তথ্য জানাবো।

শবে বরাতের নিয়ম

আমরা অনেকেই শবে বরাতের রাত নিয়ে অনেক দ্বিধা দ্বন্দের মধ্যে থাকি। অনেকেই ভাবি শবে বরাতের নামাজ পড়া কি বিদআত নাকি। সাধারণত শাবান মাসের মধ্য রাতকে আমরা বলি শবে বরাত। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি উৎসব ভবন রাত্রি পালন করা হয় শবে বরাতের রাতে। তোমাদেরকে আমাদের জানা দরকার মহান আল্লাহ আমাদেরকে যে রাতে যে পরিমাণ গুরুত্ব দিতে বলেছেন সে রাতে আমাদের সেই পরিমান গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু এই রাতকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। হাদীস কি বর্ণনা দিয়েছে তা না বুঝেই না জেনেই আমরা আমাদের মতো করে জাঁকজমকপূর্ণ করে শবে বরাত পালন করি।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যারা সারা বছর নামাজ আদায় না করে শুধু শবে বরাতের রাতে নামাজ আদায় করে। তারা মনে করে এ রাতে বেশি নামাজ পড়লে আল্লাহতালা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেবে। প্রকৃতপক্ষে এক রাত নামাজ আদায় করে কোনদিন ভাগ্য পরিবর্তন করা যায় না। এরা সাধারণত নামাজ নিয়ে উপহাস করে। এটা সত্য যে নামাজ আদায় করলে আল্লাহ খুশি হন। তবে এটাও সত্য নামাজ এক রাতের জন্য না।

শবে বরাত সম্পর্কিত সহীহ হাদিস

শবে বরাতের রাতে নামাজ পড়া এবং দিনে রোজা রাখা সম্পর্কিত হাদিস গুলো আছে এগুলো সবগুলোই জয়ীফ। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-

“আল্লাহতালা শবে বরাতের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি মনোযোগী হন এবং মসজিদ ও বিদ্বেষ পোষণ করি ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহীহ ইবনে হাদিস, হাদিস 5665)”

  • عن العلاء بن الحارث أن عائشة رضي الله عنها قالت : قام رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل يصلي، فأطال السجود، حتى ظننت أنه قد قبض، فلما رأيت ذلك قمت حتى حركت إبهامه فتحرك فرجعت فلما رفع رأسه من السجود وفرغ من صلاته قال: يا عائشة أو يا حميراء أظننت أن النبي قد خان بك؟ قلت لا والله يا رسول الله، لكني ظننت أنك قبضت لطول سجودك، فقال أتدرين أي ليلة هذه؟ قلت: الله ورسوله أعلم. قال: هذه ليلة النصف من شعبان

إن الله عز وجل يطلع على عباده في ليلة النصف من شعبان فيغفر للمستغفرين ويرحم المسترحمين ويؤخر أهل الحقد كما هو. (رواه البيهقي في شعب الإيمان، وهذا حديث مرسل لأن علاء ما سمع عن عائشة)

অর্থ : আলা ইবনে হারিস থেকে বর্ণিত, আয়িশা (রাঃ) বলেন : এক রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। সিজদাহ এত দীর্ঘ করলেন যে, আমি ধারণা করলাম তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমি এ অবস্থা দেখে দাড়িয়ে তার বৃদ্ধাঙ্গুল ধরে নাড়া দিলাম, আঙ্গুলটি নড়ে উঠল। আমি চলে এলাম। সালাত শেষ করে তিনি বললেন : হে আয়িশা অথবা বললেন হে হুমায়রা! তুুমি কি মনে করেছ আল্লাহর নবী তোমার সাথে বিশ্বাস ভংগ করেছেন? আমি বললাম : আল্লাহর কসম হে রাসূল! আমি এমন ধারণা করিনি। বরং আমি ধারণা করেছি আপনি না জানি ইন্তেকাল করলেন! অতঃপর তিনি বললেন : তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম : আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেন : এটা মধ্য শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের প্রতি মনোনিবেশ করেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং রাহমাত প্রার্থনাকারীদের রহম করেন। আর হিংসুকদেরকে তাদের অবস্থার উপর ছেড়ে দেন। (বাইহাকী তার শুয়াবুল ঈমান কিতাবে বর্ণনা করেছেন)

  • عن عثمان بن أبي العاص رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إذا كان ليلة النصف من شعبان نادى مناد : هل من مستغفر فأغفرله، هل من سائل فأعطيه ، فلا يسأل أحد إلا أعطي إلا زانية بفرجها أو مشرك. (أخرجه البيهقي في شعب الإيمان وضعفه الألباني في ضعيف الجامع رقم ৬৫২)

অর্থ : উসমান ইবনে আবিল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেয় : আছে কি কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কেহ কিছু চাইবার আমি তাকে তা দিয়ে দিব। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : মুশরিক ও ব্যভিচারী বাদে সকল প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হয়। (বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান)

এই হাদীস ছাড়া অন্যান্য সকল হাদিসগুলোর দুর্বল নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে।

Maimuna Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *