তাহাজ্জত নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জত নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম :-তাহাজ্জুদের নামাজ ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। এটি সাধারণত নফল ইবাদত। মহানবী (সা.) নিজের নফল ইবাদত আদায় করতেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরে নফল ইবাদত করতেন। তিনি যেসব নামাজ আদায় করতেন তা সম্পর্কে হাদিস শরিফে বিভিন্ন ফজিলত এর বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বেশি বেশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে থাকে এবং অধিকারী হয়। মাকরুহ সময়গুলো ছাড়া যে কোন সময় নফল ইবাদত আদায় করা যায়। অবশ্যই কিছু বিশেষ নফল নামাজ নবী করিম (সাঃ) বিশেষ সময় পড়তে এবং সে নামাজ গুলোতে বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

আপনিও যদি এই ফযিলতপূর্ণ নামাজ পড়তে চান। তাহলে আমার দেওয়া পোস্টটি ভালভাবে পড়ুন। কারণ আমি আজকে এমন একটি নফল ইবাদত সম্পর্কে আপনাদের জানাবো। যার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারবেন। তাছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারবেন। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেয়া যাক তাহাজ্জুদ নফল ইবাদত সম্পর্কে।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সময়

তাহাজ্জুতের নামাজ যে কোন সময় পড়তে পারবেন না। তাহাজ্জুদ নামাজের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। এ সময়ের ভেতর আপনি তাহাজ্জুদ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করতে পারবে। মূলত এই নামাজের সঠিক সময় হল এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত যে নফল নামাজ পড়তে হয়। বাড়ন্ত এ নামাজ শেষ রাতে পড়া উত্তম। তবে আপনি এশার নামাজ পড়তে গিয়ে সুবেসাদিকের আগ পর্যন্ত যে কোন সময় পড়তে পারবেন। নফল নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদের ফজিলত অনেক।

মহানবী (সাঃ) যেভাবে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন

মহানবী (সাঃ) অতি নিষ্ঠার সাথে এই নামাজ আদায় করতেন। তার ওপর তাহাজ্জুতের নামাজ ফরজ ছিল। কিন্তু উম্মতের জন্য কঠিন হতে পারে বলে শরীয়ত তার উম্মতের জন্য নফল করে দিয়েছি তবে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। যারা আল্লাহর অলি হয়েছেন তারা সকলেই এই নামাজের বরকতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছেন।

হযরত আয়েশা ( রা.) হতে বর্ণিত -মহানবী (সাঃ) গভীর রাতে দুই রাকাত করে মোট 8 রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন আর বাকি তিন রাকাত এশারের বেতের নামাজ সহ 11 রাকাত নামাজ আদায় করতেন। এর বেশি তিনি তাহাজ্জত আদায় করতেন না এটা ছিল মহানবী (সাঃ) এর সুন্নাহ।

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত -রসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন : প্রতিরাতে শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের মর্যাদাবান বারাকাত পূর্ণ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন,” যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেবো ।যে আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে আমার নিকট মাফ চাইবে তাকে মাফ করে দেব। (বুখারী, মুসলিম)

হুজাইফা (রা.) বলেন -রসুলুল্লাহ (সাঃ) যখন তাহাজ্জুদ পড়তেন তখন মিসওয়াক করতেন এবং আমাদের কেউ মিসওয়াক করার হুকুম দেয়া হতো, আমরা যখন পড়তাম অতঃপর নবী(সাঃ) অজু করতে ( মুসলিম )। তারপর দুআ ও গুলি 10 বার করে পড়তেন। তারপর নামাজ শুরু করতে (আবু দাউদ, মেশকাত 108 পৃ )।

তাহাজ্জুদ নামাজ সম্পর্কে কিছু হাদিস

  • তাহাজ্জুদ নামাজ বিতরণসহ 13, 11, 9 কিংবা 7 রাকাত পড়া যায় (বুখারী ,মুসলিম মেশকাত 106 পৃষ্ঠা)।
  • প্রথমে দুই রাকাত ছোট ছোট সূরা মিলিয়ে হালকাভাবে পড়ে আরম্ভ করবে (মুসলিম, 106 পৃষ্ঠা)।
  • অতঃপর দু’রাকাত করে তাহাজ্জুতের নামাজ রাকাত পড়তে চাইলে দুই স্থানে 4 রাকাত পড়ে তিন রাকাত বিতর পড়বে (বুখারী, মেশকাত 106 পৃষ্ঠা)।

কিছু পড়ার সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে দোয়া পড়তেন

তাহাজ্জুদ নামাজের মহানবী (সাঃ) যে দোয়া পড়তেন :-মহানবী(সাঃ) গভীর রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের জন্য উঠে পুরানে সূরা আল ইমরান শেষ পর্যন্ত পড়তেন-(বুখারী, মুসলিম ও মেশকাত)

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ – رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ – رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلإِيمَانِ أَنْ آمِنُواْ بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الأبْرَارِ

উচ্চারণ : রাব্বানা মা খালাক্বতা হাজা বাত্বিলান, সুবহানাকা ফাক্বিনা ‘আজাবান্নার। রাব্বানা ইন্নাকা মাং তুদখিলিন্নারা ফাক্বাদ্ আখঝাইতাহু, ওয়া মা লিজজ্বালিমিনা মিন্ আংছার।রাব্বানা ইন্নানা সামি’না মুনাদিআই ইউনাদি লিল ইমানি আন আমিনু বিরাব্বিকুম ফাআমান্না; রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফ্‌ফির আন্না সাইয়্যেআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মাআ’ল আবরার।

অর্থ :-হে আমার প্রতিপালক । এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। পবিত্র তোমারই জন্য। আমাদেরকে তুমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাও। হে প্রতিপালক, নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করো তাকে অপমানিত করো। আর জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের প্রভূ, আমরা ঈমান আনার জন্য একজন আহবানকারীকে আহ্বান করতে শুনে ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা, তুমি আমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দাও। আমাদের সকল ত্রুটি দূর করে দাও। আর লোকদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দাও।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পড়া কিছু দোয়া

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ، لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ،
وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ،
وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ ـ أَوْ لاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আংতা কায়্যিমুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না ওয়া লাকালহামদু। লাকা মুলকুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না। ওয়া লাকাল হামদু আংতা নুরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া লাকাল হামদু আংতাল হাক্কু। ওয়া ওয়া’দুকাল হাক্কু। ওয়া লিক্বাউকা হাক্কু। ওয়াল ঝান্নাতু হাক্কু। ওয়ান নারু হাক্কু। ওয়ান নাবিয়্যুনা হাক্কু। ওয়া মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা হাক্কু। ওয়াস সাআতু হাক্কু। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু। ওয়াবিকা আমাংতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু। ওয়া ইলাইকা আনাবতু। ওয়া বিকা খাসামতু। ওয়া ইলাইকা হাকামতু। ফাগফিরলি মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু। ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ’লাংতু। আংতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আংতাল মুআখ্খিরু। লা ইলাহা ইল্লা আংতা। লা ইলাহা গাইরুকা। (বুখারি)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! সব প্রশংসা আপনারই, আপনিই আসমান-জমিন ও উভয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আসমান-জমিন এবং এর মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনি আসমান-জমিনের নুর। আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনি আসমান-জমিনের মালিক, আপনারই জন্য সব প্রশংসা।

আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য। (পরকালে) আপনার সাক্ষাৎ সত্য। আপনার বাণী সত্য। আপনার জান্নাত সত্য। আপনার জাহান্নাম সত্য। আপনার (প্রেরিত) নবিগণ সত্য। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য, কেয়ামত সত্য।

হে আল্লাহ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পণ করলাম, আপনার ওপর ঈমান আনলাম, আপনার ওপরই ভরসা করলাম, আপনার দিকেই রুজু করলাম, আপনার (সন্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার আগের-পরের প্রকাশ্য ও গোপন সব পাপ/অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই শুরু এবং আপনিই শেষ মালিক। আপনি ব্যতিত সত্য কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই অথবা আপনি ব্যতিত (ইবাদতের উপযুক্ত) অন্য কেউ নেই’।

Maimuna Khan